পশ্চিমবঙ্গে নারী চিকিৎসককে হত্যা: প্রতিবাদকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি

 পশ্চিমবঙ্গে নারী চিকিৎসককে হত্যা: প্রতিবাদকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি



সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আর জি কর মেডিকেল কলেজের এক নারী চিকিৎসকের নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদী আন্দোলনটি এখন একটি বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তবে এই আন্দোলনের মূল গতিপথ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আজকের ‘নবান্ন অভিযান’ অনেককেই হতাশ করেছে। 

প্রাথমিকভাবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন বিরোধী দল বিজেপির হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্নে’ পৌঁছানোর জন্য বিজেপি নেতা-কর্মীরা আজ কলকাতা শহরে বিশাল মিছিল বের করেন। তবে আজকের মিছিলে সাধারণ মানুষের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। আন্দোলনকারীদের মধ্যে মূলত বিজেপি ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরাই ছিলেন। এর ফলে আন্দোলনের প্রাথমিক আত্মিক দিকটি কিছুটা হারিয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশের কড়া পদক্ষেপ দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, এবং লাঠিপেটার মতো উপায় অবলম্বন করে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং কিছু বিক্ষোভকারী আহত হন। তবে পুলিশ দাবি করেছে, তাদের দিক থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি আর স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের অবস্থানে নেই, বরং রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে।


বিজেপি তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করেছে এবং রাজ্যকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। 

এই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, যা প্রথম দিকে অনেককে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গণ-আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের রাশ চলে যায় বিজেপির হাতে। আন্দোলনের যে মূল উদ্দেশ্য—নিপীড়িত নারী চিকিৎসকের বিচার এবং এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ—সেটি এখন অনেকের কাছে নৈতিকভাবে দুর্বল বলে মনে হচ্ছে।

এই অবস্থায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্রসমাজ’ এবং ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ নামে সংগঠনগুলো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও আজকের নবান্ন অভিযানে তাদের ভূমিকা বিশেষভাবে দেখা যায়নি। পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, তারা এই রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। 

এমতাবস্থায় কলকাতার অনেক সাধারণ মানুষ, যারা প্রথম দিকে রাস্তায় নেমেছিলেন, তারা এখন কিছুটা হলেও আন্দোলন থেকে সরে গেছেন। শিক্ষাবিদ অজিত মুখোপাধ্যায় যেমন মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক দলের অনুপ্রবেশে আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা হারিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্দোলনটি আবার সাধারণ মানুষের হাতে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনিশ্চিত করে তুলছে।

Comments

Popular posts from this blog

ধানের মূল্য বৃদ্ধি: রাজশাহী জেলার বাজার পরিস্থিতি ২৬/০৮/২০২৪, সোমবার

নাজিরপুর, গুরুদাশপুর, নাটোর: আজকের রসুনের বাজার দর